|
মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেড মনে করে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে একটি টেকসই ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে এসেছে। এটি কোনো অনুমাননির্ভর বক্তব্য নয়, বরং কিছু বাস্তব সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও নীতিগত পরিবর্তনের কারণে নতুন বিনিয়োগ ইক্যুইটির (পুঁজিবাজারের) দিকে আসছে। টাকা কেন ইক্যুইটির (পুঁজিবাজারের) দিকে আসছে?
গভর্নমেন্ট সিকিউরিটিজের ইল্ড কমছে এই মাস থেকে ট্রেজারি বন্ড ও বিলের নিলামের ইল্ড (আয়ের হার) দ্রুত কমতে শুরু করেছে। আমরা দেখেছি আমাদের ক্লায়েন্টরা নতুন নিলামে অ্যালোকেশন কমাচ্ছে, এবং আমরা আশা করি এই ট্রেন্ড অব্যাহত থাকবে। ইল্ড কমার কারণে বন্ডের আকর্ষণ কমেছে, ফলে টাকা এখন শেয়ারবাজারের দিকে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার পারচেজ কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম বাংলাদেশ ব্যাংক কমার্শিয়াল (বাণিজ্যিক) ব্যাংক গুলো থেকে USD কিনছে। এটা আমাদের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেয় এবং USD বনাম BDT রেট স্টেবল রাখার কমিটমেন্ট দেয়, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার একটি ইতিবাচক লক্ষণ। ইনফ্লেশন কমছে এবং রেট কাট-এর পূর্বাভাস মুদ্রাস্ফীতি নিচের দিকে নামছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, আমরা আশা করি বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী দুই মাসের মধ্যে তাদের পলিসি রেট পুনরায় সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনবে । লোয়ার রেট পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে, বোরোয়িং কস্ট কমাবে এবং ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্টে আরও বেশি উৎসাহ দেবে। দীর্ঘমেয়াদী বন্ড থেকে ক্যাপিটাল গেইন যে ইনভেস্টররা দীর্ঘমেয়াদী গভর্মেন্ট বন্ডে (যেমন ১০-২০ বছর) হাই ইল্ডে বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা এখন ক্যাপিটাল গেইন পাচ্ছেন। উদাহরণ স্বরূপ, যে ১০ বছরের বন্ড ১২.৭% ইল্ডে কেনা হয়েছিল, নতুন নিলামে ~১০.৫% ইল্ড হওয়ায় ১২.৭% ইল্ডে কেনা বন্ড এর মূল্য এখন বেশি। এই লাভ সেকেন্ডারি মার্কেটে বিক্রি করে ইক্যুইটিতে পুনরায় রিনভেস্ট করা যেতে পারে। আস্থার শিফট: ভয়ের চেয়ে আস্থা বেশি কয়েক মাস আগেও আমাদের মার্কেট, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তায় তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল, তা সে জিওপলিটিক্যাল টেনশন হোক, ট্যারিফ ডিসপিউট হোক, বা পলিটিক্যাল নয়েজ এর জন্য হোক। আজ, মার্কেট রেসিলিয়েন্স দেখাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অমীমাংসিত ট্যারিফ ইস্যু এবং অভ্যন্তরীণ পলিটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট সত্ত্বেও ইনভেস্টর সেন্টিমেন্ট দৃঢ় রয়েছে। একটি কি টার্নিং পয়েন্ট ছিল ১৩ জুনের ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং মি. তারেক রহমানের লন্ডন বৈঠক, যেখানে ইলেকশন বিষয়ে একটি জয়েন্ট ডিক্লারেশন হয়েছিল। এটি ডেমোক্রেটিক রেজোলিউশনের একটি পথ দেখিয়েছিল এবং মার্কেট কনফিডেন্স ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছিল। ফরেন ইনভেস্টমেন্ট: একটি নীরব ক্যাটালিস্ট আমাদের অনুমান, ট্রেডিং প্যাটার্ন এবং অভিজ্ঞতা থেকে, যে ফরেন ফান্ডগুলো বাজারে আবার প্রবেশ করছে, বিশেষ করে ব্লু-চিপ স্টকে। উদাহরণ স্বরূপ, ব্র্যাক ব্যাংকে মে থেকে জুন মাসে ফরেন হোল্ডিং বেড়েছে। এই ট্রেন্ড সম্ভবত অব্যাহত থাকবে এবং দেশীয় ইনভেস্টর কনফিডেন্স আরও বাড়াবে। ভবিষ্যতের দিকে নতুন ফিসকাল ইয়ারের শুরুতে, বড় কোনো অভ্যন্তরীণ বা বৈশ্বিক ডিসরাপশন না থাকলে, আমরা আশা করি মার্কেট তার ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখবে। ফলিং ইন্টারেস্ট রেট, FX স্ট্যাবিলিটি, পলিটিক্যাল ক্লারিটি, এবং ফরেন ইনফ্লোর সম্মিলিত প্রভাব বাংলাদেশের ইক্যুইটি মার্কেটের জন্য একটি প্রমিজিং পিকচার তুলে ধরছে।
0 Comments
Leave a Reply. |
AuthorThe Midway Research Team Categories
All
Archives
August 2025
|
RSS Feed