midway securities ltd.
স্টক * বন্ড * ইকুইটি ইনভেস্টমেন্ট * আইপিও * বাজার গবেষণা * ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট
|
শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫’ জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন এই বিধিমালার মাধ্যমে আইপিও প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, যাতে কেবল শক্তিশালী ভিতের কোম্পানিগুলোই বাজারে আসতে পারে। এতে আইপিওর অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি কোম্পানি আইপিও থেকে উত্তোলিত অর্থের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ঋণ পরিশোধ বা বিনিয়োগে ব্যয় করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হলো, ওই ঋণ অবশ্যই কোম্পানির প্রকল্প, যন্ত্রপাতি কেনা বা ব্যবসার সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হতে হবে এবং নিরীক্ষকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খেলাপি বা রিশিডিউল করা কোনো ঋণ আইপিওর টাকা দিয়ে পরিশোধ করা যাবে না এবং এ সংক্রান্ত ব্যাংক সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০১৫ সালের বিধিমালার তুলনায় এটি অনেক বেশি কঠোর, যেখানে ঋণের ধরন নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট শর্ত ছিল না। ইউসিবি ইনভেস্টমেন্টের মতে, এই বিধিমালাটি আইপিও মূল্য নির্ধারণ, শেয়ার বরাদ্দ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। এখন থেকে ফিক্সড-প্রাইস পদ্ধতিতে প্রিমিয়ামসহ আইপিও আনা যাবে, তবে সে ক্ষেত্রে কোম্পানিকে টানা দুই বছর নিট মুনাফা ও পজিটিভ ক্যাশ ফ্লোসহ অন্তত তিন বছরের বাণিজ্যিক উৎপাদনের রেকর্ড থাকতে হবে। এছাড়া বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইএমইআই নির্ধারণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অন্তত চারটি মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন হলো বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে মূল্যের ওপর ডিসকাউন্ট সুবিধা বাতিল করা। এখন থেকে প্রাতিষ্ঠানিক, সাধারণ এবং অনিবাসী বিনিয়োগকারী—সবাইকে একই 'কাট-অফ প্রাইসে' শেয়ার কিনতে হবে। বিএসইসির মতে, আগের ডিসকাউন্ট ব্যবস্থা বাজারে কৃত্রিম মূল্য অস্থিরতা তৈরি করত। এছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে আবারও লটারি প্রথা ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা শেয়ার বরাদ্দে হতাশা কমাবে এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াবে। নতুন বিধিমালায় আইপিওর আকার নিয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোম্পানিগুলোর আইপিও-পূর্ব পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা এবং আইপিও-পরবর্তী মূলধন ৫০ কোটি টাকা হতে হবে। এছাড়া গ্রিনফিল্ড বা নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ওপর কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে; কোম্পানি মুনাফা না করা পর্যন্ত তারা দুই বছরের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না। একই সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে 'গেটকিপার' হিসেবে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা প্রসপেক্টাস যাচাই ও কারখানা পরিদর্শন করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য 'লক-ইন' পিরিয়ড প্রবর্তন করা হয়েছে, যেখানে তাদের বরাদ্দের শেয়ার ধাপে ধাপে ১৮০ দিন পর্যন্ত আটকে থাকবে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বল্প মেয়াদে আইপিওর সংখ্যা কিছুটা কমলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি শেয়ারবাজারের গুণগত মান ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে। ২০২৫ সালের এই নতুন বিধিমালা বাংলাদেশের আইপিও মার্কেটকে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার এক নতুন যুগে প্রবেশ করাবে বলে আশা করা হচ্ছে। Source: sharenews24.com
0 Comments
Leave a Reply. |
Midway News TeamWe publish the latest stock market news to help you decide on your investment decisions. Archives
January 2026
Categories |